

নিজস্ব প্রতিনিধিঃখুলনার উপকূলীয় দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রামকে ঘিরে শুরু হলো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘এসডিজি ভিলেজ’ পাইলট প্রকল্প। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের নির্বাচিত তিনটি গ্রামের সঙ্গে দাকোপের পানখালী গ্রামকেও ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এসময়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,শফিকুল আলম মানা, খুলনা কেডিএ চেয়ারম্যান,মোঃ তাজুল ইসলাম, খুলনা পুলিশ সুপার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বোরহান উদ্দিন মিঠু ও দাকোপ থানা অফিসার্স ইনচার্জ শেখ খায়রুল বাশার সহ দাকোপ উপজেলা বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা,জেলা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,জনপ্রতিনিধি,সুশীল সমাজ,সাংবাদিকবৃন্দ।
দেশের তিনটি নির্বাচিত গ্রামের একটি হওয়ায় দাকোপের জন্য দিনটি হয়ে উঠেছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে পানখালীর মমতাজ বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ করা হয় বিশাল প্যান্ডেল। স্থাপন করা হয় ডিজিটাল ডিসপ্লে প্রদর্শনী। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার দেখতে সেখানে জড়ো হন হাজারেরও মানুষ। উপকূলীয় দাকোপের বাস্তবতা বিবেচনায় পানখালীকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি পরিকল্পনায় দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, কৃষি ও জীবিকার উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দাকোপের সম্ভাবনাময় কাঁকড়া সম্পদকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে পানখালীর মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল কৃষি, জলাবদ্ধতা নিরসন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষিত বেকার যুবকদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।দাকোপের মানুষের প্রত্যাশা—পানখালী শুধু একটি ‘এসডিজি ভিলেজ’ নয়, বরং সমগ্র উপকূলীয় দাকোপের টেকসই উন্নয়নের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে উঠবে। পানখালীর সফলতা ভবিষ্যতে দাকোপের অন্যান্য গ্রামেও সমন্বিত উন্নয়নের মডেল হিসেবে ছড়িয়ে পড়বে—এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয়দের।
Leave a Reply