

নিজস্ব প্রতিনিধি:খুলনার দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের একেবারে শেষ প্রান্তে, সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে অবস্থিত পূর্ব কালাবগী সুন্দরবন জামে মসজিদ। ঝড়-ঝাপটা আর প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকা এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের একমাত্র ধর্মীয় উপাসনালয় এটি। তবে বর্তমানে চরম অবকাঠামোগত সংকটে পড়েছে মসজিদটি। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে চরম কষ্ট ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে এখানে ইবাদত-বন্দেগি করতে হচ্ছে সাধারণ মুসল্লিদের।সরেজমিনে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য ন্যূনতম কোনো টয়লেট বা বাথরুমের ব্যবস্থা নেই। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে অজু করা নিয়ে। মসজিদে কোনো ট্যাপ বা আধুনিক অজুখানার ব্যবস্থা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পবিত্রতা অর্জনের মতো মৌলিক সুবিধা না থাকায় ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।মসজিদের ভেতরে নামাজ পড়ার জন্য কোনো কার্পেট নেই। সাধারণ চাটাই বা মাদুরের ওপর ভরসা করেই মুসল্লিরা জামাতে অংশ নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, আল্লাহর কালাম তিলাওয়াতের জন্য মসজিদে পর্যাপ্ত কুরআন শরীফ এবং রেহাল (কুরআন রাখার স্ট্যান্ড) নেই। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক মুসল্লি নিয়মিত তিলাওয়াত করতে পারছেন না।
মসজিদের এই জরাজীর্ণ ও অভাবী পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মসজিদের সম্মানিত ইমাম মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ এবং মুয়াজ্জিন। ইমাম মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “সুন্দরবনের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এমনিতেই অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া। তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করলেও মসজিদের এই বড় বড় অভাবগুলো পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। একটা ভালো অজুখানা ও টয়লেট এখানে অত্যন্ত জরুরি।”মুয়াজ্জিন এবং স্থানীয় মুসল্লিরা ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, “আমরা চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে ইবাদত করছি। দেশের বিত্তবান মানুষ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যদি একটু সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিত, তবে সুন্দরবনের প্রান্তিক এই মুসল্লিরা একটু শান্তিতে নামাজ আদায় করতে পারত।”মসজিদের এই জরুরি সংকট দূরীকরণে এবং আল্লাহর ঘর সংস্কারে দেশ-বিদেশের সর্বস্তরের দ্বীনদার মুসলমান ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য আকুল আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
Leave a Reply