

এডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম:আগামীকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নলিয়ান আগমনকে কেন্দ্র করে সুন্দরবনের কোলঘেঁষা খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ানসহ সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা, বঞ্চনা ও সম্ভাবনার কথা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের মানুষ নদী, বন ও প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে জীবন ধারণ করেন। অথচ যোগাযোগব্যবস্থা, চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জীবিকার সংকটে এখানকার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত অসহনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই অঞ্চলের মানুষের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত দাবি ও প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরতে চাই।১। নলিয়ান থেকে খুলনা পর্যন্ত উন্নত যোগাযোগব্যবস্থানলিয়ান থেকে দাকোপ হয়ে খুলনার সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কের জরুরি সংস্কার ও টেকসই উন্নয়ন।ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাঘাট পুনর্নির্মাণ।গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ।জরুরি রোগী, শিক্ষার্থী ও পণ্য পরিবহনের জন্য নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা।২। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করানলিয়ান ও আশপাশের এলাকার জন্য একটি আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা বা বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন।সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, নার্স, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, গর্ভবতী নারীর চিকিৎসা এবং জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা।দূরবর্তী এলাকার মানুষ যেন সামান্য চিকিৎসার জন্যও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শহরে যেতে বাধ্য না হন।৩। শিবসা নদীতে বাগদা চিংড়ির পোনা আহরণ ও জেলেদের জীবিকা পুনর্বিবেচনা
শিবসা নদীতে বাগদা চিংড়ির পোনা আহরণসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও তার বাস্তব প্রভাব বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যালোচনা করা।নদী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি হাজার হাজার জেলে ও দরিদ্র পরিবারের জীবিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।আইনসম্মত ও পরিবেশসম্মত উপায়ে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ সৃষ্টি করা।নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিয়মিত বিকল্প কর্মসংস্থান, খাদ্যসহায়তা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।জেলেদের প্রকৃত অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।৪। সুন্দরবনকেন্দ্রিক মানুষের জীবিকা ও বনজীবীদের সমস্যা সমাধানবনজীবী, জেলে, কাঁকড়া আহরণকারী ও অন্যান্য বৈধ পেশায় নিয়োজিত মানুষের সমস্যা শুনতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ।বন ও নদীর আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রকৃত জীবিকানির্ভর মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মানবিক সমস্যাগুলো বিবেচনা করা।বৈধভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য স্বচ্ছ অনুমতিপদ্ধতি, প্রশিক্ষণ ও বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা।বন সংরক্ষণ ও মানুষের জীবন-জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।৫। টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিনলিয়ান ও আশপাশে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিংড়ি সংরক্ষণ, বরফকল, কোল্ড স্টোরেজ ও বাজারজাতকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলা।
যুবকদের কারিগরি শিক্ষা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, মৎস্যচাষি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ প্রদান।নারী ও যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান এবং ঘরে বসে আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি করা।৬। নিরাপদ পানীয় জল ও সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধানলবণাক্ততা ও পানির সংকটে ভোগা মানুষের জন্য নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা।বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, গভীর নলকূপ যেখানে উপযুক্ত, এবং কার্যকর পানি পরিশোধন প্রকল্প বাস্তবায়ন।প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে পানি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা ও সচল রাখা।৭। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগ থেকে সুরক্ষাশিবসা নদীসহ ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরের ভাঙন রোধে কার্যকর ও টেকসই প্রকল্প গ্রহণ।দুর্বল বেড়িবাঁধ মেরামত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ।ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, নিরাপদ আশ্রয়পথ এবং আগাম সতর্কীকরণব্যবস্থা জোরদার করা।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তা নিশ্চিত করা।৮। শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নবিদ্যালয় ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষকসংকট নিরসন।দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান।নলিয়ান বাজার এলাকায় কম্পিউটার ও কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন।প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।৯। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সামাজিক নিরাপত্তাপ্রকৃত দরিদ্র, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও অসহায় পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ।জেলে ও বনজীবী পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা এবং সংকটকালীন সহায়তা নিশ্চিত করা।
গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য উপযুক্ত আবাসন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে মধ্যস্বত্বভোগী ও অনিয়ম বন্ধ করা।
১০। কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় বাজারের উন্নয়ন
কৃষক ও মৎস্যজীবীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজারজাতকরণব্যবস্থা উন্নত করা।কৃষি ও মৎস্যপণ্যের সংরক্ষণ, পরিবহন এবং বিক্রির সুবিধা বাড়ানো।লবণাক্ততা-সহনশীল ফসল, আধুনিক কৃষিপদ্ধতি ও পরিবেশসম্মত মৎস্যচাষে সহায়তা প্রদান।
স্থানীয় হাটবাজার, ঘাট ও পণ্য পরিবহনের অবকাঠামো উন্নয়ন।১১। সুন্দরবন ও পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোপরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা।স্থানীয় যুবকদের পর্যটন, পরিবহন, আতিথেয়তা ও সেবামূলক কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়া।সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।১২। নলিয়ান–দাকোপের জন্য বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা
এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, দারিদ্র্য, যোগাযোগসংকট ও জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনায় একটি সমন্বিত উপকূলীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ
Leave a Reply