

নিজস্ব প্রতিনিধিঃখুলনার দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুদীপ বালার বিরুদ্ধে সম্প্রতি স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। হাসপাতালটিকে “ব্যক্তিগত ক্লিনিক” হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগসহ বিভিন্ন সেবার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের দাবি করা হয় ওই সংবাদগুলোতে। তবে এই প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছেন ডা. সুদীপ বালা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত খবরে হাসপাতালে সরকারিভাবে বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন করার কথা থাকলেও রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয় অভিযোগ আনা হয়েছে।ডা. সুদীপ বালা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে এক মাত্র নিজেই স্থায়ী গাইনি (Gynea) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব রোগীদের সিজারিয়ান সেবা সচলে আমরা সব সময় মানবিক হয়ে সক্রিয় ভাবে কাজ করি। একটি সিজারে ওষুধে সম্মানী বাবদ প্রতি অপারেশনে আনুমানিক ৪,৫০০ টাকা কমপক্ষে ব্যয় হয় সরাসরি এছাড়া তিনি হাসপাতালকে “ব্যক্তিগত ক্লিনিক” বানানোর অভিযোগের বিষয় বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগটি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দাকোপের মতো উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় সরকারি হাসপাতালেই সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা। সীমিত জনবল ও সম্পদ থাকা সত্ত্বেও চব্বিশ ঘণ্টা জরুরি বিভাগসহ ইনডোর ও আউটডোর সেবা চালু রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের অবহেলার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য এই ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে।রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহের পুরনো অভিযোগের বিষয় বলেন,খাবারের মান তদারকির জন্য হাসপাতালে একটি নির্দিষ্ট কমিটি রয়েছে। বর্তমান কর্মকর্তার অধীনে নিয়মিত বাজার এবং রোগীদের খাবার কঠোরভাবে মনিটরিং করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং পুরনো বা ভিত্তিহীন অভিযোগের সূত্র ধরে বর্তমান প্রশাসনকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনিক অবহেলা ও ঔষধ সংকট তৈরির অভিযোগের বিষয় বলেন,সরকারিভাবে যে পরিমাণ ঔষধ বরাদ্দ পাওয়া যায়, তা শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে রোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। স্টকের বিবরণী হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে নিয়মিত আপডেট করা থাকে। সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ডাঃ সুদীপ বালা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে বলেন,একটি কুচক্রী মহল হাসপাতালের সেবামূলক পরিবেশকে নষ্ট করতে এবং আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার পরও আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে রোগীদের সিজারসহ অন্যান্য জটিল সেবা দিচ্ছি, সেখানে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে মোড় দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি প্রকাশিত এই সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিতে না পড়ার অনুরোধ করছি।”স্থানীয়দের মতামত ও ভাষ্য, দাকোপের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসকদের ধরে রাখা এবং স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে সঠিক তথ্য যাচাই না করে ঢালাওভাবে অভিযোগ তুললে চিকিৎসকদের কর্মস্পৃহা নষ্ট হয়, যার চূড়ান্ত ভুক্তভোগী হবে সাধারণ রোগীরা। তারা যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
Leave a Reply