
নিজস্ব প্রতিনিধি:বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকায় গড়ে ওঠা ১৮টি ইকো রিসোর্ট ও পর্যটন ভবন কেন্দ্র বন্ধের চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ রক্ষায় জরুরি ভূমিকা রাখবে বলে পরিবেশবাদীরা মনে করলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম উৎকণ্ঠা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হুট করে এই রিসোর্টগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ বা উচ্ছেদ করা হলে স্থানীয় শত শত শিক্ষিত ও কর্মক্ষম যুবক এক রাতে বেকার হয়ে পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে এই উপকূলীয় অঞ্চলের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে। গত কয়েক বছরে দাকোপ ও মোংলা সংলগ্ন এলাকায় কমিউনিটি বেজড ইকো-ট্যুরিজম বা পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়েছে। সুন্দরবনের ওপর থেকে মানুষের অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই রিসোর্টগুলো বড় ভূমিকা রেখে আসছিল।স্থানীয় যুবকদের ভাষ্য রিসোর্টগুলো বন্ধ হলে একাধিক খাতে সরাসরি বিপর্যয় আসবে। রিসোর্টগুলোতে ম্যানেজার,গাইড, শেফ, বয় এবং হাউসকিপিং পদে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন স্থানীয় যুবকেরা। রিসোর্ট উচ্ছেদ হলে তারা সরাসরি কাজ হারাবেন।
নৌকার মাঝি ও ট্রলার চালকদের মাথায় হাত: পর্যটকদের সুন্দরবনের ক্যানেল ক্রুজিং এবং করমজল যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল স্থানীয় ট্রলার ও ডিঙি নৌকা।পর্যটক আগমন বন্ধ হলে এই শ্রমজীবী মানুষগুলো আয়হীন হয়ে পড়বেন।স্থানীয় কৃষিপণ্য ও মৎস্য বাজারের ধস: রিসোর্টগুলোতে প্রতিদিন পর্যটকদের জন্য স্থানীয় বাজার থেকে তাজা মাছ, কাঁকড়া, হাঁস ও শাকসবজি কেনা হতো। এই রিসোর্টগুলো বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয় প্রান্তিক চাষী ও জেলেরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন এবং বড় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয়ের নির্দেশনায় যে ১৮টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধ ও স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে-ইরাবতী ইকো রিসোর্ট এ্যান্ড রিসোর্ট সেন্টার, গোলকানন ইকো রিসোর্ট
বনবাস ইকো ভিলেজ, পিয়ালী ইকো রিসোর্ট,গহন - দ্য ফরেস্ট এস্কেপ,বনলতা ইকো কটেজ,জঙ্গলবাড়ী ম্যানগ্রোভ রিসোর্ট,এছাড়া সুন্দরী, অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, বনমালী ও ম্যানগ্রোভ রিসোর্ট। পরিবেশ অধিদপ্তরের দাবি, এই রিসোর্টগুলো যথাযথ পরিবেশগত ছাড়পত্র (Environmental Clearance) ছাড়া এবং পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার (ECA) নিয়ম লঙ্ঘন করে গড়ে উঠেছে।পর্যটকদের উচ্চশব্দে গান বাজানো, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা এবং বনের অতি নিকটে স্থাপনা নির্মাণ সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল।তবে রিসোর্ট মালিক সমিতি ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়ে ইকো-ট্যুরিজম বাঁচানোর আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, ঢালাওভাবে রিসোর্টগুলো ভেঙে না ফেলে নির্দিষ্ট নীতিমালা বা ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে তাদের বৈধতা দেওয়া হোক। তারা শতভাগ পরিবেশবান্ধব নিয়ম মেনে এবং প্লাস্টিক মুক্ত উপায়ে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করতে রাজি আছেন, যাতে সুন্দরবনের সুরক্ষাও নিশ্চিত হয় আবার স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানও টিকে থাকে।উপকূলীয় এলাকার অর্থনীতি সচল রাখতে এবং যুবসমাজকে বেকারত্বের অভিশাপ ও অপরাধমূলক পথ থেকে দূরে রাখতে সরকার পরিবেশ ও পর্যটনের মধ্যে একটি সমন্বিত ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করবে—এমনটাই এখন দাকোপের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোকলেছুর রহমান| প্রধান নির্বাহী সম্পদক: মোঃ ওলি উল্লাহ বার্তা ইমেইল: alorkhabor@gmail.com অফিস ঠিকানাঃ খাটাইল বাজার, পানখালী, দাকোপ খুলনা। মোবাইল: ০১৭৩০ ৬৫৮ ৭৪৯
ই-পেপার