
শুভেচ্ছা বার্তা:বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব হল শারদীয় দুর্গাপূজা। এটি অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। এই উৎসব শুধু ধর্মীয় গাম্ভীর্যপূর্ণ নয়, এর পেছনে রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক অনন্য উদাহরণ।ইতিহাস:পুস্তক ও পৌরাণিক তথ্য অনুযায়ী, প্রাচীনকালে রাজারা বসন্তকালে দুর্গাপূজা করতেন, যা ‘বাসন্তী পূজা’ নামে পরিচিত। কিন্তু শ্রী রামচন্দ্র রাবণ বধের জন্য অকালে শরৎকালে দেবী দুর্গার আহ্বান বা বোধন করেছিলেন। কৃত্তিবাসী রামায়ণ অনুযায়ী, লঙ্কাপুুরীতে রাবণ বধের লক্ষ্যে এই অকালবোধনের মাধ্যমে রামচন্দ্র শারদীয়া পূজা সূচনা করেছিলেন। তখন থেকেই শরৎকালের এই পূজা ‘শারদীয়া দুর্গাপূজা’ নামে পরিচিত। এই পূজার প্রচলন ভারতীয় উপমহাদেশে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। জমিদার প্রথা আমল থেকে শুরু করে আধুনিক যুগেও এই উৎসবের উদ্দীপনা বিন্দুমাত্র কমেনি।ঐতিহ্য:শারদীয়া দুর্গাপূজা কেবল একটি পূজা নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মহালয়ার মাধ্যমে দেবীর আগমনের সূচনা হয়। তারপর মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত চলে ধুমধাম পূর্ণ আনন্দ-উৎসব। প্রতিমা তৈরি, আলোকসজ্জা, ঢাকের শব্দ, শিউলি ফুলের সুগন্ধ, ধুনুচি নাচ—এ সবই এই উৎসবের অনন্য ঐতিহ্য। বিশেষ করে সন্ধিপূজা এবং বিজয়া দশমীর ‘সিঁদুর খেলা’ এক বিশেষ আবেগ ও ঐতিহ্যের স্মারক।পারস্পরিক সৌহার্দ্য:দুর্গাপূজার সবচেয়ে সুন্দর দিক হল এর সর্বজনীনতা। এটি কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ এই আনন্দে শামিল হয়। একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়, নতুন পোশাকে ঘুরে বেড়ানো, আনন্দ ভাগাভাগি করার মাধ্যমে তৈরি হয় এক শক্তিশালী পারস্পরিক সৌহার্দ্য। মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো, পাড়া-প্রতিবেশী এবং বন্ধুদের সাথে একত্রিত হয়ে আনন্দ উদযাপন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করে। উৎসবের এই দিনগুলোতে ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড় সবার মাঝে থাকে এক চমৎকার একাত্মতা।পরিশেষে:শারদীয়া দুর্গাপূজা আমাদের শিখায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি, অশুভের বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের গুরুত্ব। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা একে অপরের আরও কাছে আসি, নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল হই। পারস্পরিক প্রেম, সহানুভূতি এবং সহার্দ্যই হল এই উৎসবের মূল বার্তা।এই মহতী উৎসবে সকলের জন্য শুভকামনা এবং শান্তি কামনা রইল।শারদীয় শুভেচ্ছা! সবাই ভালো থাকুন, আনন্দে থাকুন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোকলেছুর রহমান| প্রধান নির্বাহী সম্পদক: মোঃ ওলি উল্লাহ বার্তা ইমেইল: alorkhabor@gmail.com অফিস ঠিকানাঃ খাটাইল বাজার, পানখালী, দাকোপ খুলনা। মোবাইল: ০১৭৩০ ৬৫৮ ৭৪৯
ই-পেপার