
নিজস্ব প্রতিনিধি:খুলনার দাকোপ উপজেলার ৭ নং তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া বাজার সংলগ্ন হরি সভা মন্দির এলাকায় ঢাকী নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ৭টি পরিবারের ঘরবাড়ি। মুহূর্তের মধ্যেই নদীগর্ভে সম্বল হারিয়ে অসহায়ের মতো ওয়াপদা বেড়িবাঁধের রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। ভাঙন কবলিত এলাকায় বর্তমানে চরম ভয়াবহ ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকী নদীর আকস্মিক ও ভয়াবহ ভাঙনে বটবুনিয়া এলাকার ৭টি পরিবার তাদের শেষ আশ্রয়স্থলটুকুও হারিয়েছেন। ঘরবাড়ি, আসবাবপত্রসহ সবকিছু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো এখন সম্পূর্ণ গৃহহীন। কোনো উপায় না পেয়ে তীব্র রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ওয়াপদা রাস্তার ওপর পলিথিন ও ছাউনি টাঙিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এই ভাঙনকবলিত মানুষগুলো। তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী জালাল উদ্দীন সহ ইউনিয়নের ওয়ার্ড ইউপি সদস্যরা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় নদী ভাঙনের খবর পেয়ে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৭টি পরিবারের প্রত্যেককে ৩০ কেজি চাল এবং নগদ ৬ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ইউএনও’র এই দ্রুত পদক্ষেপে সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেলেও স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য আকুতি জানিয়েছেন সর্বস্ব হারানো মানুষগুলো।এদিকে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাকি এলাকা ও ঐতিহ্যবাহী বটবুনিয়া বাজার রক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ভাঙন কবলিত পয়েন্টে জিও ব্যাগ ও ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে জোয়ারের পানির প্রবল চাপ ও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে কাজ করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না গেলে পুরো বটবুনিয়া বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।বর্তমানে ভাঙন কবলিত বটবুনিয়া এলাকায় এক থমথমে ও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঢাকী নদীর পাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন। যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় ধরনের ধসের আশঙ্কায় অনেকেই তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আরও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোকলেছুর রহমান| প্রধান নির্বাহী সম্পদক: মোঃ ওলি উল্লাহ বার্তা ইমেইল: alorkhabor@gmail.com অফিস ঠিকানাঃ খাটাইল বাজার, পানখালী, দাকোপ খুলনা। মোবাইল: ০১৭৩০ ৬৫৮ ৭৪৯
ই-পেপার