দাকোপের চালনা বৌমার গাছতলা নামক স্লুইস গেটের সমস্যার শেষ নেই! বার বার গর্ত সৃষ্টি,ধূলাবালি দিয়ে দায়শারা


নিজস্ব প্রতিনিধিঃখুলনার দাকোপ উপজেলার ১টি চালনা পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে জনবসতি। এ অঞ্চলের মানুষ সহজ সরল আর কমল প্রকৃতির। যারা এ অঞ্চলে চাকরি সুবাদে আসে তারা এ অঞ্চলের মানুষের ভালোবাসায়সিক্ত হয়।খুব সহজে সাধারণ মানুষ থেকে মধ্যবিত্ত ও শ্রমিক কৃষক তাদের সাথে মিশে যায়।আর সেই সুযোগে চাকরী করতে আসা দীর্ঘ দিন একই স্থানে থাকার সুবাদে জিম্মি হয় অবহেলিত এ মানুষ গুলো। বিগত দিনে পৌরসভাসহ ইউনিয়নে কোটি কোটি টাকার বাজেট হলেও নেই তার প্রকৃতপক্ষে ব্যবহার। তেমনি দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভার অধীনে কোটি কোটি টাকার বাজেটের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিগত দিনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ভয়ে হুমকিতে সাধারণ মানুষ মুখ না খুললেও এখন কেহ কেহ মুখ খুলছে। এখনো দাকোপে বিভিন্গন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতারা সক্রিয় ভাবে তাদের ক্ষমতা বল প্রয়োগ করে চলেছে। ১৫ জানুয়ারি চালনা পৌরসভার কোটি টাকার বৌমার গাছতলা স্লুইস গেটের ঠিক মাঝখানে বড় ধারণের গর্ত সৃষ্টি হতে দেখা যায়। ওই সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে কৃষক দিনমুজরী ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতংক সৃষ্টি হয় এবং আলোচনা গুনজন শুরু হয়। চালনা পৌরসভার স্থানীয় বাসিন্দা অতীন মন্ডল বলেন, রাতে যখন গর্ত দেখা যায়, তখন আমরা খবর শুনে দেখতে আসি। এসে দেখি অবস্থা খুব খারাপ। এ গর্ত সৃষ্টি হয়ে মোট ৪ বার গর্ত হয়েছে তাছাড়া কয়েক মাস আগেও গেটের তলা দিয়ে বড় ধারণ গর্ত সৃষ্টি হয়ে এপাশ ওপাশ দিয়ে জ্বল প্রভাবিত হয়েছিল। আমরা সাধারণ মানুষ কৃষক চরম আতংকে আছি। তিনি আরো বলেন, টিকাদার কাজ করেছে ইন্জিনিয়ার বুঝে নিবেন!কিন্তু কি বুঝে নিলেন ইন্জিনিয়ার বাবু? আমরা মনে করি এর জন্য দায়ী ইন্জিনিয়ার নিজেই। এছাড়া ১৫ জানুয়ারি খুব ভোরে ঘটনাস্থলে আসলে জানা যায়,চালনা পৌরসভার ইন্জিনিয়ার রতন কুমার রায়ের নেতৃত্বে কয়েকজন শ্রমিকের মাধ্যমে ১০/১২ বস্তু ধূলাবালু দিয়ে কোন কায়দায় গর্ত বন্ধ করে। পরবর্তীতে ইট বিছিয়ে চোখের আড়াল করলেও এখনো গর্তের সেই চিহ্ন পুরোপুরি চোখের পলকে। এবিষয় স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী মহিলা জানান,এ গেট নিয়ে অনেক খেলা আমরা দেখেছি,কবে ফাইনাল খেলা হবে জানি না! সামনে পিছনে গর্ত আর গর্ত! আমরা চরম ঝুঁকিতে আছি। যে কোন সময় আরো বড় ধারণের ক্ষতি হতে পারে বলে মনি করি। স্থানীয় এক যুবক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, গেট ও খাল কাননের সময় মাটিও বিক্রি করে খেয়েছে। তিনি আরো বলেন,গেট উদ্বোধনের ১ সপ্তাহ পরেই তলা ভেদ হয়ে পানি সরবরাহ হয়। সেই সাথে দু’পাশের পিলিয়ার গুলো নতুন করে সংষ্কার করে তাতেও দুর্নীতি করে। সবুজপল্লীর বাসিন্দা আলহাজ্ব আবু দাউদ বলেন, আসলে এ কোটি টাকার গেট নিয়ে আমাদের সাধারন মানুষের মাঝে অনেক স্বপ ছিল। আমরা মনে করেছিলাম মজবুত বাঁধ টেকসই উন্নয়নের স্লুইস গেটটি কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য উপকারের হবে। কিন্তু,আজ গেট চরম আতংকের কারণ। চালনা পৌরসভার সাবেক এক কমিশনার বলেন,দুর্নীতি করতে করতে মাটিও বিক্রি করে খেয়ে এখন বড় নেতা সেজে বসে আছি। আমরা একটু যদি চোখ মিলাই তাহলে দেখা যাবে সামান্য অফিস সহয়ক,দপ্তরি হয়েও বাড়ি,দামী গাড়ি কোথা থেকে আসে?রাতারাতি বড় লোক কি আজব? তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন খুলনা জেলার দায়িত্বরত কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।এ বিষয় চালনা পৌরসভা ইন্জিনিয়ার রতন কুমার এর সাথে অফিসে সাক্ষাৎ করতে গেলে অফিসে পাওয়া যায় না এবং মুটোফোনে কয়েক বার ফোন করলে রিসিভ করে তিনি বলেন, আপনি অফিসে আসেন, আমাদের জরুরি মিটিং আছে কথা বলবো পরে। চালনা পৌরবাসি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে স্লুইস গেটে জড়িত সকল দুর্নীতিবাজসহ বিগত দিনে পৌরসভার নামে রাতারাতি ধনী হওয়া রড চোর,দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখোশ খুলে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
